
রাইসুল ইসলাম রুবেল, ফরিদপুরঃ ফরিদপুরে এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে কৃষকরা সোনালি আঁশ ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে শুধু আঁশ নয়, নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে পাটখড়ি। একসময় সীমিত ব্যবহার থাকলেও বর্তমানে বহুমুখী প্রয়োগের কারণে এ খড়ির দাম ও চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
প্রাচীনকাল থেকে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ ও গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরিতে পাটখড়ির ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে পার্টিকেল বোর্ড, কার্বন ফ্যাক্টরি ও বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পাটখড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্ববাজারেও এর কদর বাড়ছে। বিশেষ করে এর ছাই ব্যবহার করা হচ্ছে কার্বন পেপার, প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের কালি, আতশবাজি, মোবাইল ব্যাটারি, প্রসাধনী, পানি ফিল্টার, এমনকি ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবেও।
বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালি, সালথা ও নগরকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ি মজুত করছেন যত্ন করে। বর্তমানে ১০০ আঁটি পাটখড়ি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, আঁশের ভালো দাম না পেলেও পাটখড়ি বিক্রি করে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন।
বোয়ালমারীর রেনিনগর গ্রামের কৃষক হাসান মিয়া বলেন, “কয়েক বছর আগেও পাটখড়ির তেমন চাহিদা ছিল না। এখন দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা কিনতে আসেন এবং ভালো দামও দিচ্ছেন।” সালথার নোটখোলা গ্রামের কৃষক হোসেন বলেন, “একসময় শুধু জ্বালানি, বেড়া ও ছাউনির কাজে ব্যবহার হতো পাটখড়ি। এখন এটি দেশের পানের বরজ ও কার্বন ফ্যাক্টরিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।”
মধুখালির বাগাট গ্রামের কৃষক আলী জানান, “পাটখড়ির ছাই আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদা সৃষ্টি করেছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দাম কয়েক গুণ বেড়েছে।”
সাতক্ষীরার পাটখড়ি ব্যবসায়ী মোস্তফা সেখ বলেন, “৭-৮ বছর আগে ফরিদপুর থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতাম। কিন্তু বর্তমানে জেলায় অর্ধশতাধিক কার্বন ফ্যাক্টরি থাকায় স্থানীয় চাহিদাই মেটানো যাচ্ছে না। ফলে দামও বেড়েছে।” স্থানীয় ব্যবসায়ী বিল্লাল খান বলেন, “একসময় শুধু রান্নার জ্বালানি বা বেড়ার কাজে ব্যবহৃত হতো পাটখড়ি। এখন এটি আমাদের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। বড় বড় কোম্পানির এজেন্টরা গ্রাম থেকে খড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”
একসময় অবহেলিত পাটখড়ি আজ ফরিদপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সোনালি আঁশের পাশাপাশি এ শিল্পের বিকাশ কৃষকের ঘরে বাড়তি আয়ের পথ খুলে দিয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে কৃষি অর্থনীতিতে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।