
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঐতিহাসিক পঙ্খীরাজ খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পঙ্খীরাজ খালটি উপজেলার উদ্ধবগঞ্জ হতে ভট্টপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। দক্ষিন ষোলপাড়া কালভার্টের পাশে প্রায় ১৫-২০ ফুট খাল দখল করে স্থাপনা নির্মান করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
রবিবারে সকালে সরেজমিন দেখা যায়, দক্ষিণ ষোলপাড়ার সিরাতুল মুস্তাকিম মাদরাসার নিকটের কালভার্টের সীমানা থেকে পঙ্খীরাজ খাল দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মিজানুর রহমান মিজান। শুধু খাল দখল নয় সরকারি খাস জমি দখল সহ অনুমোদন না নিয়ে ব্লিডিং কোড না মেনেই তিনি নির্মান করছেন বহুতল ভবন। এ ব্যাপানে তিনি জানান, জমিটা তার কেনা। যতোটুকু জমি কিনেছেন ততোটুকুতেই ব্লিডিং করছেন। খাল দখল হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে কোন উত্তর দিতে পারেননি।
গ্রামবাসীরা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্থায়ীভাবে কলম গেঁথে স্থাপনা নির্মাণের কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এভাবে খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে থাকলে সামান্য বৃষ্টি হলেই খালের পানি লোকালয়ে ঢুকবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাই ঐতিহাসিক এই খালটি রক্ষার্থে অবৈধ স্থায়ী পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফের খালটির ঐতিহ্য রক্ষায় খনন করার দাবি জানান তারা।
ভট্টপর গ্রামের মাসুদ রানা জানান, উদ্ববগঞ্জ -পানামের এ রাস্তাটি মালিকের জমির উপর দিয়ে গেছে। অথচ পূর্বদিকে ১০-১৫ ফুট খাস জমি আছে। খাল দখল করা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারন বলেও তিনি জানান।
ঠিকাদার রিংকু জানান, তিনি ইঞ্জিনিয়ার সজিবের আন্ডারে কাজ করছেন। প্লান পাশের ব্যাপারে তিনি বলেন কাগজ জমা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার সজিব কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে প্লান ইঞ্জিনিয়ার সজিব বলেন, আমি কাগজ জমা দিয়ে কাজ করছি। আগে ব্লিডিং হউক পরে প্লান পাশ করিয়ে নিবো। এ রকম কোন নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোনারগাঁয়ে গত প্রায় ১ বছর ধরে কোন প্লান পাস করছে না। তাহলে লোকজন কি বসে থাকবে?
সোনারগাঁ পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, প্লান জমা দিয়েই ব্লিডিং নির্মান করা বেআইনি। তাছাড়া সরকারি খাস জমি ও খাল দখল করা আইন বর্হিভূত কাজ। এ ব্যাপারে ইউএনও স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সোনারগাঁ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে খাল দখলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ম্যাপ দেখে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা ভেঙে খাল উদ্ধার করা হবে।