
সোনারগাঁও প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে নিয়ামত উল্লাহর মালিকানাধীন অবৈধ চুনা কারখানা দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়তে চালু থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান সত্ত্বেও বারবার চুনা চুল্লি স্থাপন ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে কারখানা চালু রাখায় এখন সবার মনে একটিই প্রশ্ন—কার অদৃশ্য খুঁটির জোরে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়ামত উল্লাহ?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়নসহ সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়ি ও জনবসতির আশপাশে অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক চুনা ও ঢালাই কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় চোরাই গ্যাস ব্যবহার করে পাথর পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হয়। কারখানাগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং কার্বন ধোঁয়া বাতাস দূষিত করছে। পাশাপাশি চুন ও ছাইয়ের গুঁড়া ছড়িয়ে পড়ায় আশেপাশের সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা ও চর্মরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে চুনা কারখানার চুল্লি ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলেও অভিযানের মাত্র কয়েকঘন্টার মাথায় তা পুনরায় চালু করা হয়। নিয়ামত উল্লাহর কারখানাতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তিতাস কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের নামমাত্র উচ্ছেদ পরিচালনা করে, তা নাহলে কীভাবে আবার চোরাই গ্যাস সংযোগ পেয়ে চুনা পোড়ানো শুরু হয়, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে এভাবে পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ কারখানা পরিচালনা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাদের দাবি, কেবল লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান বা সামান্য জরিমানা করে দায় সারলে এই চক্রকে থামানো সম্ভব নয়। জমির মালিক ও কারখানা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ পরিবেশ অধিদপ্তর, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিয়ামত উল্লাহ সহ সকল অবৈধ চুনা কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।