1. admin@dainikmuktoalo.com : admin :
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সোনারগাঁওয়ে উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রীর আস্থার প্রতীক ‘মিফতাহ এন্টারপ্রাইজ’ সোনারগাঁয়ে বাসে ‘হাফ ভাড়া’র দাবিতে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ সাময়িক সমস্যার জন্য দুঃখিত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পিরোজপুরে চলছে অবৈধ চুনা কারখানা, কার আশ্রয়ে নেয়ামত উল্লাহ? খুঁটির জোর কোথায়? সরকারি বিধি অমান্য করে সোনারগাঁওয়ে ৪ বছর ধরে বহাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা! মেঘনায় বিয়েবাড়ির যাত্রীবাহী ট্রলারডুবি, নারী নিহত ও একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ কে হচ্ছেন বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের পরবর্তী অভিভাবক? আলোচনায় জনপ্রিয় দুই মুখ মামুন ও নোবেল সোনারগাঁয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কৃষকদল নেতা নুর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার সোনারগাঁওয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে মিথ্যা মামলার হুমকি, সংবাদ সম্মেলনে তীব্র নিন্দা সোনারগাঁওয়ে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্যর মালিকানাধীন চৈতি কম্পোজিটকে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকা জরিমানা

গাজীপুরে দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

দৈনিক মুক্ত আলো
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১৫৯ বার পঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) সকাল ১১ টায় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামান্না রহমান জ্যোতি এবং কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ মিয়ার যোগসাজশে প্রকৃত জমির মালিকদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

সমাবেশে ভুক্তভোগী এক জমির মালিক আব্দুল মালেক বলেন , যে দলিলের সূত্রে জবরদখলকারী প্রতিপক্ষ জমির মালিকানা দাবি করেন, সেই দলিলে জমির দাগ নম্বর ভিন্ন হওয়ায় (আলোচিত জমির ক্ষেত্রে ওই ভায়া দলিল জাল) বিজ্ঞ আদালত তা বাতিল করে দেন। ওই বাতিল হওয়া সহায়ক দলিল দ্বারা করা নামজারি জমাভাগ অবিলম্বে বাতিল চেয়ে আমি ২০২২ সালের ০৬ ডিসেম্বর একটি মিস কেস (নম্বর ২৪৯/২২) করি। জবরদখরকারীদের নামজারি জমাভাগ অবিলম্বে বাতিল হওয়ার অবস্থায় থাকলেও ওই মিস কেস টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের তৎকালীন সহকারী  কমিশনার (ভূমি) তামান্না রহমান জ্যোতি ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল না করে কালক্ষেপণ করে জবরদখলকারীদের সুবিধা দেন। এমনকি তিনি গত আড়াই বছরে শুনানির সময় আমাকে কোনো কথাই বলতে দেননি। ফলে আমরা প্রকৃত মালিকরা আজও আমাদের সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার ফিরে পাইনি। ওই মিস কেসটি এখনো টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে ঝুলে আছে।

অপরদিকে, ভিন্ন দাগ ও অবস্থানের কারণে আদালতের মাধ্যমে বাতিলকৃত জাল ভায়া দলিলসূত্রে মালিকানা দাবিকৃত জমিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তি তথা জমি জমা সম্পর্কিত বিরোধ প্রসঙ্গে অস্থায়ী  আদেশ চেয়ে প্রতিপক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান, দেওয়ান মোজাম্মেল হক, ও কৃষ্ণ গোপাল সাহা গাজীপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা নম্বর ৫৪৭/২৪, ৫৪৮/২৪ ও ৫৪৯/২৪ দায়ের করেন।

আদালত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে ৩টি মামলার সংশ্লিষ্ট নালিশি জমির দখলীয় অবস্থার প্রতিবেদন তলব করেন। সে মতে আদালত সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী  কর্মকর্তাকে নালিশি জমির সরেজমিন তদন্ত করে দখলীয় অবস্থার প্রতিবেদন দিতে বলেন। কিন্তু কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ মিয়া ভূমিদস্যুদের সহযোগিতা করতে ও ন্যায়বিচার ব্যাহত এবং আদালতকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রদান করেছেন।

প্রতিবেদনে আব্দুল লতিফ মিয়া প্রকৃত মালিকদের হয়রানি করতে এবং অবৈধ দখল দীর্ঘায়িত করতে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে অন্য জমির দাগ নম্বর উল্লেখ করে, এখতিয়ার বহির্ভূত ও জাল তথ্য সংযোজন করে ভূমিদস্যুদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে প্রকৃত মালিকদের সম্পত্তি  হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং আনুমানিক ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হবে।

আব্দুল মালেক বলেন, আমরা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ মিয়াকে সঠিক প্রতিবেদন  দেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করেছি। কিন্তু আমাদেরকে হয়রানি করতে এবং ভূমিদস্যুদের অবৈধ দখল দীর্ঘায়িত করতে তিনি অন্য জমির ভুল দাগ নম্বর উল্লেখ করে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন দিয়ে অবৈধ দখলদারদের সহায়তা করেছেন।

আব্দুল মালেক আরও বলেন , ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ মিয়া ভিন্ন তিনটি প্রতিবেদনে যে সব মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন সেই অনুসারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে ওই মিথ্যা তথ্যের প্রতিবেদনই প্রেরণ করেছেন। এতে ন্যায় বিচার সম্ভব নয়। ওই মিথ্যা তথ্যের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত কীভাবে ন্যায় বিচার করবেন?

এদিকে, কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তাকে আলোচিত জমি প্রসঙ্গে আব্দুল মালেককে বলতে শোনা যায়, “মামলার শুনানির দিন আমার কাছে আসতেন, আমি এসি (ল্যান্ড) স্যারকে দিয়ে এডিএম স্যারকে ফোন করাইতাম, আর বলতাম এটা মিসটেক হইছে। এরপর এডিএম স্যার সংশোধন করে দিতেন।”

গাজীপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি জুলীয়াস চৌধুরী বলেন, “কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি ও মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্নীতি বেড়েই চলেছে।”

তিনি আরও বলেন, “জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই দুর্নীতির জালে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও ন্যায় বিচারের আশায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য দেন ভোক্তভোগী ও জমির মালিক সুইটি বেগম, করিমন নেছা, হাবেল মিয়া, হালিম উদ্দিন, রহিম উদ্দিন, করিম মোল্লা প্রমুখ।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অর্ধশতাধিক সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
সংবাদটি শেয়ার করুন :

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরির আরও সংবাদ