
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁওয়ে ভূমি অফিসে সেবা প্রদানের পরিবর্তে গড়ে তোলা হয়েছে এক অঘোষিত ঘুষ ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য । আর এই বিশাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী কাচপুর রাজস্ব সার্কেল মোঃ ইমরান হাসান এর বিরুদ্ধে । তার ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে ১০-১২ জনের একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট । সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম হয়রানি ও আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ।
ঘুষের ‘রেট’ ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনারগাঁও ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই ইমরান হাসান চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার লালিত দালালদের মাধ্যমে প্রতিটি কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘রেট’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে । সরকার নির্ধারিত ভূমি খারিজের ফি মাত্র ১১৫০ টাকা । সাধারণ নামজারি দালালদের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১৫-২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে । কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলে দাবিকৃত টাকার পরিমাণ পাঁচগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। টাকা ছাড়া এই অফিসে কোনো কাজ হয় না । এমনকি অনেক সময় ঘুষের টাকা দেওয়ার পরও কাজ না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে । জাল দলিলে অন্যের নামে জমি নামজারি করে দেওয়া এবং সেবাগ্রহীতাদের মূল নথিপত্র গায়েব করে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধও ঘটছে অহরহ । চরম ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ভূমি মালিক জানান, ইমরানের দাবিকৃত ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা তালবাহানায় দিনের পর দিন ঘোরানো হয় । নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই নারী ভুক্তভোগী বলেন “আমরা দুই মাস ধরে ঘুরছি । এর উপায় জানতে চাইলে অফিসের একজন জানান, ২০ হাজার টাকা দিলে কাজ করে দেওয়া যাবে ।
এমনকি অফিসের ভেতরের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তার বেঁধে দেওয়া মাসিক টার্গেট অনুযায়ী নামজারির কাজ এনে না দিলে তাদের অফিসে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় ।
সরেজমিন তদন্তে গেলে দেখা যায়, দালালরা অনায়াসে নথিপত্র নাড়াচাড়া করছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে দালালদের দ্রুত সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় ।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভুমি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সোনারগাঁও ভূমি অফিসের এই দুর্নীতি ও অনিয়ম এখন ওপেন সিক্রেট । সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এবং এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার লাগাম টানতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা ।