
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া বালুরমাঠ এলাকায় হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় এক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে ৪০ বছর বয়সী ঐ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত যুবক কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় তাকে হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।একপর্যায়ে রোগী শ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব করেন এবং জ্ঞান হারান। রোগীর এমন অবস্থার পর হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে বলা হয়। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথেই তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরে দ্রুত নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে তাকে যে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, সেটাই তার মৃত্যুর কারণ। চিকিৎসকরা না বুঝেই ঔষধ প্রয়োগ করেছেন। আমরা বারবার বলেছি, আগে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।তারা আরও বলেন, এটা যদি ঢাকায় নেওয়ার মতই অবস্থা হতো, তাহলে আগে থেকেই জানানো হতো। বরং ইনজেকশন দেওয়ার পরই হঠাৎ অবস্থার অবনতি হয়। এটা স্পষ্ট ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার ফল।অন্যদিকে, হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলা হয়েছে, রোগীর চিকিৎসা দায়িত্বে ছিলেন ডা. সঞ্জয় কুমার সাহা। তিনি বিষয়টি ভালোভাবে বলতে পারবেন। তবে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ হাসপাতালের রিসিপশনে উপস্থিত কর্তব্যরতদের ঘটনার বিস্তারিত জানতে আগামীকাল সকালের মধ্যে তথ্য দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় এক চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ভুল ঔষধ প্রয়োগ করলে তা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যদি প্লেটিলেট কমে যায় কিংবা ঔষধের প্রতি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিক শারীরিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। ঘটনার বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এদিকে মৃত যুবকের পরিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (BMDC) অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।