
নিজস্ব প্রতিবেদক গাজীপুরঃ গাজীপুরের বাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালাল চক্রের মাধ্যমে সেবা প্রদান, ঘুষ বাণিজ্য এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী আব্দুল হাই সিকদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসের কোনো অনুমোদিত কর্মচারী না হয়েও সুমন নামে এক ব্যক্তি নিয়মিত কম্পিউটার পরিচালনা করে বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কাজ করছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সুমন নামে ওই ব্যক্তি কম্পিউটার নিয়ে বসে বিভিন্ন নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী আব্দুল হাই সিকদারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি খারিজ, নামজারি ও খাজনার বিভিন্ন আবেদন সংগ্রহ করে থাকেন।
একাধিক সূত্রের দাবি, খাজনা নির্ধারণে কারসাজির মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব কম দেখিয়ে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো জমির খাজনা তিন লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি এক লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে ঘুষ হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হয়। এভাবে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে আব্দুল হাই সিকদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খারিজ, নামজারি ও ভূমি-সংক্রান্ত ফাইল জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার সঙ্গে তার বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নলগাঁও সিকদারবাড়ির মৃত কাদু সিকদারের ছেলে আব্দুল হাই সিকদার ১৯৮৯ সালে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উত্তর বিলাসপুর সড়কের ভাঙা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় প্রায় আট কাঠা জমির ওপর নির্মিত পাঁচতলা একটি বাড়ি, একটি মার্কেট ও একটি টিনশেড বাড়ি রয়েছে তার পরিবারের মালিকানায়। এছাড়া নিজ গ্রাম নলগাঁও নতুনবাজার এলাকায় তিনতলা মার্কেটসহ আরও একাধিক স্থাপনা ও জমি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিলাসপুর এলাকার বাসিন্দা ও ঠেলাগাড়িচালক জলিল বলেন, “প্রায় ১০ বছর ধরে এখানে থাকি। পাঁচতলা বাড়ি, টিনশেড বাড়ি ও মার্কেটগুলো এলাকায় নায়েব আব্দুল হাই সিকদারের সম্পত্তি হিসেবেই পরিচিত।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা,হলে আব্দুল হাই সিকদারের স্ত্রী শিরিন সুলতানা গাজীপুরের বাড়ি ও মার্কেট তাদের বলে স্বীকার করেন। পরে আব্দুল হাই সিকদারও গাজীপুরের পাঁচতলা বাড়ি ও মার্কেট এবং কাপাসিয়ার নতুনবাজার এলাকার মার্কেটগুলোর মালিকানা তাদের বলে জানান।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালে একটি নারী কেলেঙ্কারি ঘটনার জেরে আব্দুল হাই সিকদারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছিল এবং তিনি কয়েকদিন কারাগারেও ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি এখনও একই পদে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা