নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদী খনন নামে অবৈধ বালু উত্তোলনে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাট এখন বিলীনের শঙ্কায়। মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শতবর্ষী এই হাটের পাশ থেকে একটি মহল অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, বিআইডব্লিউটিএ থেকে উপজেলার মেঘনা নদীর খনন কাজের ইজারা পান ব্যবসায়ী মোমেন সিকদার। পরবর্তীতে তাঁর কাজ থেকে খননের কাজটি নেন উপজেলার যুবদল নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা। তিনি উপজেলার প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী খননের নামে অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন করছেন অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে নদীর তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ হাটটি বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওই হাটের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, আনন্দবাজার হাট শুধু একটি বাণিজ্যকেন্দ্র নয়, এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অংশ। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এই হাটে কেনাবেচার জন্য আসেন। হাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের জীবিকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে ১০/১২ টা ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। তারা দাবি করে বলেন, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের ১ নং সদস্য ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানার নেতৃত্ব সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতাদের নিয়ে ও মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের রবিউল্লাহ রবিসহ শতাধিক মানুষের একটি সিন্ডিকেট নদী খননের নাম করে তারা প্রতিদিন রাতের আধার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে। নদী ড্রেজিং করার জন্য দিনের বেলায় নদী বন্দরের কাটিং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার নিয়ম। কিন্তু রাতে অবৈধ বালু উত্তোলন করে বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ।
ইতোমধ্যে নদীর পাড়ের কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কয়েক বছরের মধ্যেই আনন্দবাজার হাটের অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে কাউকে পাওয়া যায় নি। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাতকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।